ফুটবলপাগল ব্রাজিলে প্রায় প্রতিটি শিশুরই স্বপ্ন থাকে একদিন জাতীয় দলের হলুদ জার্সি গায়ে বিশ্বকাপে খেলার। সেই স্বপ্নই মাত্র ১৯ বছর বয়সে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন তরুণ ফরোয়ার্ড রায়ান। ভাস্কো দা গামার একাডেমি থেকে উঠে আসা এই ফুটবলার এখন ব্রাজিল জাতীয় দলের অন্যতম সম্ভাবনাময় মুখ।
সম্প্রতি ব্রাজিল দলের টিম হোটেলে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে নিজের উত্থানের গল্প তুলে ধরেন রায়ান। তিনি জানান, ফুটবলার হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে সাবেক কোচ ফার্নান্দো দিনিজ ও আন্দোনি ইরাওলার অবদান ছিল অনেক। পাশাপাশি বর্তমান কোচ কার্লো আনচেলত্তির দেওয়া আস্থা ও অনুপ্রেরণা তাকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।
মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে নিজের নাম লিখিয়েছেন রায়ান। পেলে, এদু, জুলিনহো, কৌতিনহো ও রোনালদো নাজারিওর পর তিনি ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপে মাঠে নামা ষষ্ঠ সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার।
রাফিনিয়ার ইনজুরির কারণে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে শুরুর একাদশে সুযোগ পান এই তরুণ ফরোয়ার্ড। ৮২ মিনিট মাঠে থেকে একটি গোলে সহায়তা করার পাশাপাশি নিজের পারফরম্যান্স দিয়েও মুগ্ধ করেন সবাই। তবে ব্রাজিলের মতো দলে জায়গা ধরে রাখা যে মোটেও সহজ নয়, সেটিও ভালোভাবেই জানেন তিনি।
ইনজুরি কাটিয়ে নেইমারের ফেরা এবং এনড্রিকের মতো প্রতিভাবান ফুটবলারের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে রায়ান বলেন, “আমাদের দলে জায়গা পাওয়ার লড়াইটা খুবই কঠিন। আমি মাঠ ছাড়লেই নেইমার কিংবা এনড্রিকের মতো তারকারা নামবে। এখানে প্রতিদিন অনুশীলনে কে কেমন করছে, তার ওপর ভিত্তি করেই কোচ চূড়ান্ত একাদশ নির্বাচন করেন।”
বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে খেলার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রায়ান। তিনি বলেন, ওয়ার্ম-আপের সময় বারবার মনে পড়ছিল ভাস্কো দা গামা থেকে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছানোর দীর্ঘ ও কঠিন পথচলার কথা। অসংখ্য বাধা, প্রতিকূলতা ও কঠোর পরিশ্রমের পরই তিনি আজ এই অবস্থানে পৌঁছেছেন।
রায়ানের মতে, তার সাফল্যের সবচেয়ে বড় রহস্য কঠোর অনুশীলন ও আত্মনিবেদন। কোচ আনচেলত্তি অনুশীলনের ব্যাপারে খুবই কঠোর। সেই কঠিন অনুশীলনেই নিজের সর্বোচ্চটা উজাড় করে দেওয়ার কারণেই তিনি কোচের আস্থা অর্জন করেছেন। আর সুযোগ পেয়েই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে সেই বিশ্বাসের প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করছেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড।