রাজধানীর বকশীবাজারে অবস্থিত ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার হলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। গত ৪ আগস্ট পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের পর হলের নিয়ন্ত্রণ নেয় ছাত্রদল। এরপর কয়েক দফা হলে প্রবেশের চেষ্টা করেছেন ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা। তবে পুলিশের বাধায় তারা হলে প্রবেশ করতে পারেননি বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।
শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে বকশীবাজার মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার হলে প্রবেশের চেষ্টা করছেন। এ সময় পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাঁদের আটকে দেয়। এর আগে গত বুধবারও শিবিরের নেতা-কর্মীরা হলে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়।
শিবিরের নেতা-কর্মীরা জানান, শনিবার দুপুর ১২টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত তাঁরা সেখানে অবস্থান করেন। পরে তাঁরা সরে গেলে পুলিশ ব্যারিকেড তুলে নেয়।
হলে প্রবেশে পুলিশ ও মাদ্রাসা প্রশাসনের অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবদুল আলীম বলেন, ছাত্রদল-যুবদলের নেতা-কর্মীরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হলে অবস্থান করলেও তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। অথচ শিবিরের নেতা-কর্মীরা হলে প্রবেশ করতে গেলে পুলিশ বাধা দিচ্ছে। মাদ্রাসা প্রশাসনও তাঁদের কোনো সহযোগিতা করছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বৈধ শিক্ষার্থী ও পরীক্ষার্থীদের হলে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে না। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) আমিনুল কবির বলেন, যেসব শিক্ষার্থীর পরীক্ষা রয়েছে, তাঁরা প্রবেশপত্র দেখিয়ে ভেতরে যেতে পারছেন। বৈধ শিক্ষার্থীরাও হলে যেতে চাইলে তাঁদের প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। তবে দলবল নিয়ে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না, কারণ এতে আবারও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এর আগে গত ৪ আগস্ট আল্লামা কাশগরী (রহ.) হলের একটি কক্ষে তালা দেওয়া নিয়ে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে প্রথমে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। একপর্যায়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা হলে প্রবেশ করেন। এ সময় কয়েকটি কক্ষ ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের দাবি, ওই ঘটনায় হলে থাকা শিবিরের নেতা-কর্মীদের কক্ষগুলো ভাঙচুর করা হয় এবং ল্যাপটপ, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, এরপর থেকেই ছাত্রদল-যুবদলের নেতা-কর্মীরা হলে অবস্থান করছেন।
অন্যদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে ছাত্রদল। আলিয়া মাদ্রাসায় ছাত্রদলের কোনো কমিটি নেই। তবে হলে অবস্থান করা এবং নিজেকে মাদ্রাসা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে দাবি করা ছাত্রদল কর্মী সাদ চৌধুরীর ভাষ্য, সেদিন শিবিরের নেতা-কর্মীরা বহিরাগতদের নিয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের কক্ষগুলো ভাঙচুর ও মালামাল নিয়ে যায়। পরে তাঁরা হলে প্রবেশ করেন।
সাদ চৌধুরী দাবি করেন, বর্তমানে হলে ৬০ থেকে ৭০ জন ছাত্রদল কর্মী অবস্থান করছেন। তিনি বলেন, তাঁরা সহাবস্থানে বিশ্বাসী। শিবিরের নেতা-কর্মীরা হলে থাকতে চাইলে হল প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে উঠতে পারবেন। তবে আগের মতো সব কক্ষ দখলে রাখার সুযোগ থাকবে না; আলোচনা করে কে কয়টি কক্ষে থাকবে, তা নির্ধারণ করতে হবে।
এদিকে হলে বর্তমানে কারা অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে হল প্রশাসনের বক্তব্য জানতে চাইলে হলের প্রভোস্ট মো. মোস্তফা কামাল এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে সহকারী অধ্যক্ষ মো. আশরাফুল করিব জানেন। পরে তাঁর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মিটিংয়ে আছেন বলে জানান এবং পরে কথা বলবেন বলে জানান। পরবর্তী সময়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
হলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই ছাত্রসংগঠনের মধ্যে উত্তেজনার মধ্যে পুলিশ জানিয়েছে, বৈধ শিক্ষার্থীদের প্রবেশে বাধা নেই; তবে দলবদ্ধভাবে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা এড়াতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।