দেশের বরেণ্য চিত্রশিল্পী, পাপেট আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ারকে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টায় শ্বশুর তোফায়েল উদ্দিন আহমেদের কবরের পাশে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
দাফনের আগে তার মরদেহ নেওয়া হয় চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে। সেখানে সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী, সংস্কৃতিকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে তার শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অভিনয়শিল্পী আবুল হায়াত, শহীদুজ্জামান সেলিম, সালাহউদ্দিন লাভলু, রাশেদ মামুন অপু, হাবিবুর রহমান খান, খোরশেদ আলম খসরুসহ চ্যানেল আই পরিবারের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা অংশ নেন।
সকাল থেকেই মুস্তাফা মনোয়ারের শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। প্রথমে রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) প্রাঙ্গণে তার মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় এবং সেখানে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বেলা ১১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ রাখা হয়। সেখানে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তার মরদেহ নেওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে। সেখানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শিল্পী ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে চ্যানেল আই প্রাঙ্গন হয়ে তার শেষ যাত্রা পৌঁছায় বনানী কবরস্থানে।
দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন মুস্তাফা মনোয়ার। রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।
মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে দেশের শিল্প, সংস্কৃতি ও গণমাধ্যম অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাষ্ট্রের বিভিন্ন মহল, সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিল্পী, সাহিত্যিক ও গুণগ্রাহীরা তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
দেশের শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশে মুস্তাফা মনোয়ারের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার সৃষ্টিশীল কর্ম, শিল্পচর্চা এবং নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করার অসামান্য ভূমিকা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে।