জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ার হত্যাকাণ্ডে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করেন। মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে আন্দোলন চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার নির্দেশ, আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় উসকানি এবং দমন-পীড়নে ভূমিকা রাখার অভিযোগ উল্লেখযোগ্য।
রায়ের সময় ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত গুরুত্বপূর্ণ আলামতের মধ্যে ছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও হাসানুল হক ইনুর একটি ফোনালাপ। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, ওই কথোপকথনে আন্দোলন দমন, আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারীদের তালিকা তৈরি, গ্রেপ্তারের পরিকল্পনা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়।
ফোনালাপের এক পর্যায়ে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, "সেনা পাঠানো হচ্ছে... আর হেলিকপ্টার দিয়ে সোজা বোম্বিং করা হবে।" জবাবে ইনু বলেন, "ওপর দিয়ে সাউন্ড বোম যাবে।"
এছাড়া কথোপকথনে আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আটক করার বিষয়ে আলোচনা হয়। ইনুকে বলতে শোনা যায়, স্থানীয়ভাবে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করে রাতের মধ্যেই গ্রেপ্তার করা হলে পরবর্তী মিছিল ঠেকানো সম্ভব হবে। শেখ হাসিনাও এ বিষয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতায় তালিকা তৈরির কথা বলেন।
ফোনালাপের আরেক অংশে ইন্টারনেট চালু, গণমাধ্যমে প্রচার কৌশল এবং আন্দোলনকে বিএনপি-জামায়াতের নাশকতা হিসেবে তুলে ধরার বিষয়েও আলোচনা হয় বলে আদালতে উপস্থাপিত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, এই ফোনালাপ জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে আন্দোলন দমনে উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় ও পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত হয়। ট্রাইব্যুনাল রায় প্রদানের সময় উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও অন্যান্য আলামত বিবেচনায় নিয়ে হাসানুল হক ইনুকে দোষী সাব্যস্ত করেন।