সিলেটের এমসি কলেজে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত ছয় দফা সংস্কার দাবি বাস্তবায়ন, শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যান্টিন চালু এবং কলেজের শতবর্ষী আসাম প্যাটার্নের ভবন সংরক্ষণের দাবিতে অধ্যক্ষের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল, এমসি কলেজ শাখা।
সোমবার (৭ জুলাই) দুপুর ১২টায় কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ তোফায়েল আহাম্মদের কাছে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এ স্মারকলিপি পেশ করেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরদিন এমসি কলেজের শিক্ষার্থীরা একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক ও শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে ছয় দফা সংস্কার দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে ছিল সন্ত্রাস, দখলদারিত্ব ও রাজনৈতিক সহিংসতার অবসান, শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসন ও পরিবহন নিশ্চিত করা, র্যাগিং ও মোরাল পুলিশিং বন্ধ, নারী নিপীড়নবিরোধী সেল কার্যকর করা, অবিলম্বে ছাত্র সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে ক্যাম্পাসে স্মৃতিফলক নির্মাণ।
সংগঠনের অভিযোগ, সে সময় কলেজ প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিলেও প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থীর এই ঐতিহ্যবাহী কলেজে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কোনো ক্যান্টিন নেই। ২০১৪ সাল পর্যন্ত ক্যান্টিন চালু থাকলেও এরপর থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য স্বল্পমূল্যে স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্মত খাবারের ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থী দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
এছাড়া কলেজের শতবর্ষী আসাম প্যাটার্নের ভবনগুলো বর্তমানে অবহেলা ও ধ্বংসের ঝুঁকিতে রয়েছে উল্লেখ করে স্মারকলিপিতে বলা হয়, এসব ভবন শুধু স্থাপনা নয়, বরং এমসি কলেজের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও স্থাপত্যিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই ভবনগুলো ভেঙে ফেলার পরিবর্তে মূল নকশা ও ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রেখে বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে সংরক্ষণ ও সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপি প্রদানকালে গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল, এমসি কলেজ শাখা কাউন্সিল প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক আয়শা আক্তার বলেন, “শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে কলেজ প্রশাসনের দীর্ঘসূত্রতা দুঃখজনক। আমরা এমন একটি এমসি কলেজ চাই, যেখানে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে। প্রশাসনকে নিরপেক্ষ, জবাবদিহিমূলক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ছয় দফা সংস্কার দাবি বাস্তবায়ন, ক্যান্টিন চালু এবং শতবর্ষী ভবন সংরক্ষণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। অধ্যক্ষ মহোদয় আমাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা সেই আশ্বাসের বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চাই।”
গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল সিলেট নগর শাখার সভাপতি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক ও এমসি কলেজের শিক্ষার্থী তানজিনা বেগম বলেন, “অভ্যুত্থানের আগে এমসি কলেজে ছাত্রলীগের সন্ত্রাস, দখলদারিত্ব ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন অসংখ্য শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সে সময় কলেজ প্রশাসনের ভূমিকা ছিল হতাশাজনক। আমরা সেই পক্ষপাতদুষ্ট প্রশাসনিক সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি চাই না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা যে সংস্কারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছিল, তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে ক্যান্টিন চালু এবং কলেজের ঐতিহাসিক আসাম প্যাটার্নের ভবন সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করা হবে।”