হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় ১৩ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে সুমন মিয়া নামের এক তরুণকে আটক করেছে স্থানীয়রা। আটকের পর ক্ষুব্ধ জনতা তাকে গণপিটুনি দিয়ে মাথা ন্যাড়া করে দেয় এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। বুধবার উপজেলার ভাদিকারা গ্রামে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত সুমন মিয়া একই গ্রামের জিতু মিয়ার ছেলে।
ঘটনার বিবরণ: পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত তিন দিন আগে সুমন মিয়া কৌশলে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে। লোকলজ্জা ও ভয়ের কারণে ভুক্তভোগী কিশোরী বিষয়টি প্রথমে গোপন রাখে। তবে একপর্যায়ে সে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিলে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত সুমনকে নিজ গ্রাম থেকে আটক করে। এরপর তাকে মারধর করে, মাথা ন্যাড়া করে এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে লাখাই থানায় নিয়ে গিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
পুলিশের পদক্ষেপ: এ বিষয়ে লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফ আহমেদ জানান, অভিযুক্ত তরুণকে বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া, ভুক্তভোগী কিশোরীকে প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা: ওসি আরও জানান, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। ধর্ষণের অভিযোগের পাশাপাশি স্থানীয় জনতা কর্তৃক আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং ওই তরুণের মাথা ন্যাড়া করার বিষয়টিরও তদন্ত করা হচ্ছে। সম্পূর্ণ তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।