দেশে অস্বাভাবিকভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, অসহনীয় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে সাধারণ মানুষের জনজীবন ক্রমেই দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ বা দৃশ্যমান তৎপরতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে।
যারা একসময় ক্ষমতার বাইরে থেকে নাগরিকের মৌলিক অধিকার, দ্রব্যমূল্য ও জনদুর্ভোগের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন, ক্ষমতায় আসার পর তাদের অনেকের অবস্থান নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে। জনগণ জানতে চায়—ক্ষমতায় থাকলে কি জনস্বার্থে নিজের সরকারের সিদ্ধান্ত বা ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায় না?
যখন একজন নাগরিক তার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে হিমশিম খাচ্ছেন, তখন দায়িত্বশীল মহলের নীরবতা আরও হতাশাজনক মনে হয়। এতে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে—তাহলে আগের প্রতিবাদগুলো কি শুধুই রাজনৈতিক বক্তব্য ছিল, নাকি সত্যিই জনস্বার্থে ছিল?
প্রচলিত একটি প্রবাদ আছে—"যে লঙ্কায় যায়, সেই রাবণ হয়।" অনেকেই মনে করছেন, বর্তমান বাস্তবতা যেন সেই প্রবাদকেই নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।
বর্তমান দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে। একই সঙ্গে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, অতীতে যে বিভিন্ন নাগরিক গোষ্ঠী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা একই ধরনের ইস্যুতে উচ্চকণ্ঠ ছিলেন, তারা এখন তুলনামূলকভাবে কম সক্রিয় কেন? গণতান্ত্রিক সমাজে সরকার যে-ই থাকুক না কেন, জনগণের স্বার্থে একই মানদণ্ডে জবাবদিহি দাবি করা জরুরি।