জামালপুরে অনৈতিক সম্পর্কের ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ইশরাত জাহান মিমি নামে এক নারীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মো. কাউসার আহমেদ খান (৩২) নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তারের পর আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ আগস্ট জামালপুর সদর থানাধীন পশ্চিম নয়াপাড়া রেলগেট সংলগ্ন বাবুল মিয়ার ভবনের পঞ্চম তলার একটি কক্ষ থেকে ইশরাত জাহান মিমির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পিবিআই জামালপুর জেলার ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ছায়াতদন্ত শুরু করে।
পরে নিহতের মা মোছা. মুক্তা বেগম বাদী হয়ে মো. কাউসার আহমেদ খানসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুজনের বিরুদ্ধে জামালপুর সদর থানায় মামলা করেন। ২৪ আগস্ট দায়ের করা মামলাটির নম্বর ৫২ এবং এতে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি পিবিআই জামালপুর জেলা স্ব-উদ্যোগে গ্রহণ করে তদন্ত শুরু করে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) রুপন কুমার সরকার, পিপিএম-বার তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় ২৪ আগস্ট বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে জামালপুর সদর থানার বাগেরহাটা এলাকা থেকে মামলার এজাহারনামীয় আসামি কাউসার আহমেদ খানকে গ্রেপ্তার করেন।
পিবিআইয়ের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে নিহত মিমির সঙ্গে কাউসারের পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পিবিআইয়ের দাবি, মিমি গোপনে তাদের শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও ধারণ করে কাউসারকে ব্ল্যাকমেইল করে বিভিন্ন সময়ে অর্থ আদায় করতেন।
ঘটনার দিন মিমি কাউসারকে তার ভাড়া বাসায় ডেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে মিমি কাউসারের স্ত্রীকে ফোন করে তাদের সম্পর্কের কথা জানিয়ে দেন। এতে উত্তেজিত হয়ে কাউসার মিমির গলা চেপে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে পিবিআইয়ের তদন্তে জানা যায়। পরে তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
গ্রেপ্তারকৃত কাউসার আহমেদ খান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
তবে ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।