জয়পুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনে হামলা, গুলিবর্ষণ, ককটেল বিস্ফোরণ এবং হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় সশস্ত্রভাবে অংশগ্রহণ ও হামলায় সহযোগিতার সঙ্গে সাবেক মেয়র মোস্তাকের সম্পৃক্ততা ছিল। ওই সময়ে ককটেল বিস্ফোরণ, গুলিবর্ষণ ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় জয়পুরহাটে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এসব ঘটনায় কারা সরাসরি জড়িত ছিলেন, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।
এ ছাড়া পাঁচবিবির কলেজশিক্ষার্থী বিশাল হত্যাকাণ্ডসহ জয়পুরহাটে সংঘটিত বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়ও সাবেক মেয়র মোস্তাকের বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা সামনে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে যথাযথ তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, ৫ আগস্টের পর আত্মগোপনে থাকার পর দেশ ছাড়ার চেষ্টাকালে বিমানবন্দরে মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক আটক হয়েছেন—এমন খবরও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে তার আটকের বিষয়টি এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর আইনগত অবস্থান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে ছাত্র আন্দোলনে হামলা, হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার প্রতিটি অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। তদন্তে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইনে সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সাধারণ মানুষের ভাষ্য, ক্ষমতার চেয়ার কখনো চিরস্থায়ী নয়। তাই অতীতে সংঘটিত সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।