| ঢাকা
নিউজ.জংশন
বিজ্ঞাপন
যেকোন ধরনের ওয়েব সাইট, ওয়েব এপ, বা সফটঅয়ার এর জন্য আজই যোগাযোগ করুন SYED CREATIONS এ। এক যায়গায় পাবেন সকল সমাধান। ফ্রী পরামর্শের জন্য কল দিন: ০১৮৩৭৫২২৯০২ নাম্বারে।
সারাদেশ

ট্রেনের ছাদ থেকে নামতে গিয়ে দুই বগির মাঝে পড়ে যুবকের মৃত্যু

সামজাদ জসি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আপডেট: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৭
ট্রেনের ছাদ থেকে নামতে গিয়ে দুই বগির মাঝে পড়ে যুবকের মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার কেল্লা শহীদ মাজার জিয়ারত শেষে বাড়ি ফেরার পথে নরসিংদী রেলস্টেশনে ট্রেনের ছাদ থেকে নামতে গিয়ে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।


শুক্রবার (১৪ আগস্ট ২০২৬) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নরসিংদী রেলস্টেশনে যাত্রাবিরতি শেষে ট্রেনটি পুনরায় চলা শুরু করলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।


নিহত যুবকের নাম মো. আমীর হোসেন (২৬)। তিনি নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী থানার নগর বানিয়াদী এলাকার মৃত সামসুল হকের ছেলে।


পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ঐতিহ্যবাহী কেল্লা শাহের মাজারে গিয়েছিলেন আমীর হোসেন। সেখানে রাতভর অবস্থান ও মোনাজাত শেষে শুক্রবার ভোরে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে ঢাকার অভিমুখে আসা ‘তিতাস কমিউটার’ ট্রেনে ওঠেন তারা। ট্রেনে অত্যাধিক ভিড় থাকায় ভেতরে জায়গা না পেয়ে আমীর ও তার দুই বন্ধু বাধ্য হয়ে ট্রেনের ছাদে চড়েন।


সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ট্রেনটি নরসিংদী রেলস্টেশনে পৌঁছালে ছাদ থেকে যাত্রীদের নামার প্রচণ্ড হুড়োহুড়ি শুরু হয়। ট্রেনটি পুনরায় চলতে শুরু করলে তাড়াহুড়ো করে নামার চেষ্টা করেন আমীর। এ সময় কোথাও টান লেগে তার পরনের লুঙ্গি খুলে গেলে তিনি ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন এবং চলন্ত ট্রেনের দুই বগির মধ্যবর্তী স্থানে পড়ে যান। উপস্থিত শত শত যাত্রীর চোখের সামনেই ট্রেনটি তাকে অন্তত ৩০ গজ দূরে টেনে নিয়ে যায়।


ঘটনার পরপরই স্টেশনে থাকা স্থানীয় লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা দ্রুত তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ফরিদা গুলশানারা কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "ট্রেনে কাটা পড়া ওই ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। পরবর্তীতে তার মরদেহ রেলওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।


আমীরের ঠিক আগেই ট্রেনের ছাদ থেকে নিরাপদে নিচে নামতে পেরেছিলেন তার বন্ধু আক্রাম হোসেন। বন্ধুর এমন করুণ মৃত্যুতে স্তব্ধ আক্রাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমরা তিন বন্ধু একসঙ্গেই মাজারে গিয়েছিলাম। ভিড়ের কারণে বাধ্য হয়েই ছাদে উঠতে হয়েছিল। স্টেশনে পৌঁছানোর পর আমরা দুজন নামতে পারলেও আমীর নামতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। চোখের সামনেই চলন্ত ট্রেনের নিচে পড়ে ও শেষ হয়ে গেল।


নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) দিলীপ চন্দ্র সরকার জানান, তিতাস কমিউটারের ছাদ থেকে নামার সময় দুই বগির মাঝে পড়ে গিয়ে ঘটনাটি ঘটে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত আবেদন করায় বিনা ময়নাতদন্তে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


সম্পর্কিত খবর

SYED CREATIONS

যেকোন ধরনের ওয়েবসাইট, ওয়েব অ্যাপ বা সফটওয়্যারের জন্য আজই যোগাযোগ করুন। এক জায়গায় পাবেন সকল সমাধান!

০১৮৩৭৫২২৯০২