মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কবিরাজি-গুতগুতি ফানাই নদীর দুই পাশের কাঁচা রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে কাদায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় স্থানীয় কয়েকজন তরুণ স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তাটি মেরামত করে সাময়িকভাবে যাতায়াতের উপযোগী করেছেন।
গত ২৬ জুলাই ২০২৬ প্রতাবী মোকাম বাজারের ব্যবসায়ী মুহিবুর রহমান লিটনের অর্থায়নে এবং গুতগুতি গ্রামের তরুণ সমাজসেবক এনামুল রিমনের তত্ত্বাবধানে তাহসিন, রিয়াদ ও ফাহাদসহ কয়েকজন তরুণ ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরিশ্রম করে ফানাই নদীর উভয় পাশের বেহাল কাঁচা রাস্তা সংস্কার করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা শুধু এই রাস্তা নয়, দীর্ঘদিন ধরেই গুতগুতি গ্রামে বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কাজে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কবিরাজি, গুতগুতি, প্রতাবী, বনগাঁও, লক্ষিপুর, পূর্ব হাসিমপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের জন্য এই সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কুলাউড়া শহর কিংবা ফানাই নদীর পূর্ব পাশে যাতায়াতের ক্ষেত্রে এ পথটি ব্যবহার করলেও দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে জরুরি রোগী পরিবহন, মোটরসাইকেল কিংবা অন্যান্য যানবাহন নিয়ে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বছরের পর বছর পার হলেও সড়কটির স্থায়ী উন্নয়ন হয়নি। ফলে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির মধ্যেই চলাচল করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।
এ বিষয়ে তরুণ সমাজসেবক এনামুল রিমন বলেন, সড়কটির ইট সলিংয়ের দাবিতে তারা একাধিকবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। প্রতিবারই দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি হয়নি। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি অবহেলিত থাকলেও তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ কিছু সড়কে উন্নয়ন কাজ হয়েছে, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।
এদিকে, গণমাধ্যমের মাধ্যমে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে কবিরাজি-গুতগুতি ফানাই নদীর দুই পাশের সড়কটি স্থায়ীভাবে ইট সলিং বা পাকা করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশা, দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে বহু গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হবে।