| ঢাকা
নিউজ.জংশন
বিজ্ঞাপন
যেকোন ধরনের ওয়েব সাইট, ওয়েব এপ, বা সফটঅয়ার এর জন্য আজই যোগাযোগ করুন SYED CREATIONS এ। এক যায়গায় পাবেন সকল সমাধান। ফ্রী পরামর্শের জন্য কল দিন: ০১৮৩৭৫২২৯০২ নাম্বারে।
সারাদেশ

ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ক্ষোভে পেঁয়াজ পানিতে ফেলছেন কৃষক

উৎপাদন খরচও উঠছে না, চরম লোকসানে কৃষক

নিউজ জংশন ডেস্ক
আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬, ০৬:২৪
ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ক্ষোভে পেঁয়াজ পানিতে ফেলছেন কৃষক
পানিতে ফেলা পেয়াজ । ছবিঃ সমকাল

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় ন্যায্যমূল্য না পেয়ে চরম হতাশায় উৎপাদিত পেঁয়াজ খাল, পুকুর ও ডোবার পানিতে ফেলে দিচ্ছেন কৃষকরা। উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারদর অনেক কমে যাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়ে তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

সম্প্রতি উপজেলার খোয়াড় গ্রামের একটি ডোবার পানিতে কৃষকদের পেঁয়াজ ফেলে দিতে দেখা যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য, বর্তমান বাজারদরে পেঁয়াজ বিক্রি করে উৎপাদন খরচও ওঠে না। তাই অনেক কৃষক বিক্রির পরিবর্তে পেঁয়াজ ফেলে দিচ্ছেন।

পেঁয়াজ চাষি দাউদ মাতুব্বর জানান, বর্তমানে প্রতি মণ পেঁয়াজ ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ সার, বীজ, সেচ, ডিজেল, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে প্রতি মণ উৎপাদনে খরচ হয় প্রায় ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা। এছাড়া দীর্ঘদিন সংরক্ষণের ফলে ওজনও কমে যায়, ফলে লোকসানের পরিমাণ আরও বেড়ে যায়।

একই সংকটে রয়েছেন ফরিদপুরের নগরকান্দা, বোয়ালমারী, ভাঙ্গা, সদরপুর ও মধুখালী উপজেলার পেঁয়াজ চাষিরাও। ভালো ফলন হলেও বাজারে দাম কম থাকায় অধিকাংশ কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ঋণ নিয়ে চাষ করা অনেক কৃষকের পক্ষে এখন ঋণের কিস্তি পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

কৃষক আহম্মদ মাতুব্বর বলেন, এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদে আগের চেয়ে অনেক বেশি খরচ হচ্ছে। বর্তমানে এক মণ পেঁয়াজ বিক্রি করে এক কেজি গরুর মাংসও কেনা যায় না। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে আগামী মৌসুমে পেঁয়াজ চাষ করবেন কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।

পাইকারি ব্যবসায়ীদের মতে, এ বছর ফলন ভালো হওয়ায় এবং বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ বাজারে আসায় সরবরাহ বেড়েছে। ফলে দাম কমেছে। তবে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উৎপাদন বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত সংরক্ষণাগারের অভাব এবং বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে প্রতিবছরই পেঁয়াজের দামে বড় ধরনের ওঠানামা হয়। এতে কখনও ভোক্তা, আবার কখনও কৃষক ক্ষতির সম্মুখীন হন।

সালথা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হাজার ৫০০ হেক্টর। তবে কৃষকদের আগ্রহে তা ছাড়িয়ে ১২ হাজার ৫৮৫ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে এবং মোট প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ১২৫ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে। কৃষি বিভাগের হিসাবে প্রতি কেজি পেঁয়াজ উৎপাদনে গড়ে ২৪ টাকা, অর্থাৎ প্রতি মণে প্রায় ৯৬০ টাকা খরচ হয়। বাজারমূল্য নির্ধারণ কৃষি বিভাগের হাতে না থাকলেও কৃষকদের সংরক্ষণ পদ্ধতি বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দবির উদ্দিন বলেন, কৃষকরা ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কষ্টে আছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্যের কাছে লিখিতভাবে তুলে ধরা হবে, যাতে কৃষকদের স্বার্থে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া যায়।

এদিকে, ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ডিডি) কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান জানান, পেঁয়াজ সংরক্ষণে সহায়তা দিতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জেলায় ১ হাজার ৪৩০টি এয়ারফ্লো মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। চলতি বছর আরও ৭০০টি বিতরণ করা হয়েছে এবং প্রায় আড়াই হাজার মেশিন সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংরক্ষণ সুবিধা বাড়ানো গেলে কৃষকরা কম দামে তাৎক্ষণিকভাবে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হবেন না বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, সরকারিভাবে পেঁয়াজ সংগ্রহ, আধুনিক সংরক্ষণাগার নির্মাণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ এবং বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে পেঁয়াজ চাষে কৃষকদের আগ্রহ কমে যাবে, যা দেশের কৃষি অর্থনীতির জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

রেফারেন্স: জাতীয় দৈনিক সমকাল


সম্পর্কিত খবর

SYED CREATIONS

যেকোন ধরনের ওয়েবসাইট, ওয়েব অ্যাপ বা সফটওয়্যারের জন্য আজই যোগাযোগ করুন। এক জায়গায় পাবেন সকল সমাধান!

০১৮৩৭৫২২৯০২