প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠে ইতিহাস গড়েছিল মিশর। শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দুর্দান্ত লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের নাটকীয় হারে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয় আফ্রিকার প্রতিনিধিদের।
ম্যাচের ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল মিশর। তবে শেষ ১৪ মিনিটে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে তিন গোল করে জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে রেফারিং নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান।
তার অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিদ্ধান্ত তাদের বিপক্ষে গেছে। ভিএআরের মাধ্যমে ৫৮তম মিনিটে মিশরের একটি গোল বাতিল করা হয়। এছাড়া আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে মোহাম্মদ সালাহকে বক্সের মধ্যে ফাউল করা হলেও পেনাল্টি দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
হোসাম হাসান বলেন, “আমরাই ভালো খেলেছি এবং প্রতিপক্ষের ওপর নিজেদের কৌশল চাপিয়ে দিতে পেরেছিলাম। কিন্তু আমাদের সঙ্গে ন্যায়বিচার হয়নি। কেন আমাদের গোল বাতিল করা হলো, আমি জানি না।”
রেফারিংয়ের সমালোচনার পাশাপাশি বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মিশর কোচ। তিনি বলেন, “বিশ্বকাপ এখন অনেকটাই বিপণন নির্ভর। তারা চেয়েছিল মেসি যতদিন সম্ভব টুর্নামেন্টে থাকুক।”
তবে হতাশাজনক বিদায়ের পরও নিজের দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট হাসান। তার মতে, এবারের বিশ্বকাপে মিশরের সাফল্য দেশটির ফুটবলের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ভিত্তি তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, “বিশ্বকাপে আমার দলের পারফরম্যান্সে আমি খুবই সন্তুষ্ট। আমাদের দল আফ্রিকান ও আরব ফুটবলের সম্মান রক্ষা করেছে। আমরা কোনো দলকে ভয় পাই না। এই বিশ্বকাপে যা অর্জন করেছি, তার ভিত্তিতেই ভবিষ্যতের লক্ষ্য পূরণে এগিয়ে যাব। বিশ্বের যেকোনো দলের সঙ্গে সমানতালে লড়াই করাই আমাদের লক্ষ্য।”
নিজের খেলোয়াড়দের প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, “আমার খেলোয়াড়দের ধন্যবাদ। তারা প্রমাণ করেছে, বিশ্বের সেরা লিগে খেলা ফুটবলারদের সঙ্গেও সমানতালে লড়াই করা সম্ভব। ভবিষ্যতে আমরা বিশ্বের শীর্ষ ফুটবল জাতিগুলোর কাতারে জায়গা করে নেব।”
সবশেষে দেশের সমর্থকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে হাসান বলেন, “মিশরের মানুষের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আমরা আপনাদের আনন্দ দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু বিষয়টি আমাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল না। আমরা আরও অনেক দূর যেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কী ঘটেছে, সবাই তা দেখেছেন।”