পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইয়েদ নূর-ই আলমের বিরুদ্ধে একাধিক প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন-ভাতা গ্রহণ, ইউনিয়ন পরিষদের মোটরসাইকেল ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার, অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ নেওয়া এবং ভিজিডির চাল পরিবহনের ভাড়া অনিয়মের মাধ্যমে উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় সম্প্রতি জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন দামুপাড়া এলাকার ফরিদার রহমান। তবে অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন চেয়ারম্যান। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইয়েদ নূর-ই আলম একই সঙ্গে হাড়িভাসা দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। অভিযোগকারীর দাবি, তিনি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সম্মানী ভাতা নেওয়ার পাশাপাশি মাদ্রাসা থেকেও বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের ২৫ জুন ২০২৬ তারিখের একটি স্মারকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক একই সঙ্গে চেয়ারম্যান হিসেবে সম্মানী ভাতা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন-ভাতা গ্রহণ করতে পারবেন না বলে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। এ কারণে চেয়ারম্যানের ক্ষেত্রে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের আওতায় হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদকে একটি মোটরসাইকেল দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, মোটরসাইকেলটি ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটরের মাধ্যমে গ্রাম আদালতের কাজে ব্যবহারের কথা থাকলেও চেয়ারম্যান সেটি নিজের বাসায় রেখে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজে ব্যবহার করছেন।
ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর শাহাদাত হোসেন মোটরসাইকেলটি দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিষদে দেখেননি বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত বছরের জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে ভিডাব্লিউবি (ভিজিডি) চাল পরিবহনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব থেকে ২৪ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। যদিও পরিবহন ব্যয় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর থেকে দেওয়ার কথা বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া চেয়ারম্যানের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মাসে সর্বোচ্চ ৭০০ টাকা জ্বালানি খরচ নেওয়ার নিয়ম রয়েছে দাবি করে অভিযোগকারী বলেন, গত কয়েক মাস ধরে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জ্বালানি খরচ নেওয়া হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইয়েদ নূর-ই আলম বলেন, “আমি মাদ্রাসায় চাকরি করি, এজন্য বেতন নিই। পরিষদের সম্মানী সরকার দেয়, না দিলে নেব না। এ বিষয়ে ইউএনও অফিস ব্যাখ্যা দিতে পারবেন।”
জ্বালানি খরচের বিষয়ে তিনি বলেন, “চেয়ারম্যানদের জন্য ৭০০ টাকায় জ্বালানি হয় না। যখন যত খরচ হয়, আমি সেই টাকা নিই।”
মোটরসাইকেল নিজের বাসায় রাখার বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, “মোটরসাইকেলটি পরিষদে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছিল। এজন্য বাসায় নিয়ে রাখা হয়েছে। সচল রাখার জন্য মাঝে মাঝে চালানো হয়।”
অভিযোগগুলোর বিষয়ে পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা সুলতানা জানান, বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।