| ঢাকা
নিউজ.জংশন
বিজ্ঞাপন
যেকোন ধরনের ওয়েব সাইট, ওয়েব এপ, বা সফটঅয়ার এর জন্য আজই যোগাযোগ করুন SYED CREATIONS এ। এক যায়গায় পাবেন সকল সমাধান। ফ্রী পরামর্শের জন্য কল দিন: ০১৮৩৭৫২২৯০২ নাম্বারে।
সারাদেশ

পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি সড়কের ব্যাপক ক্ষতি

টানা বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে তলিয়ে গেছে ফসলি জমি ও মাছের খামার, পুরাতন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অন্তত ১০ স্থানে ভাঙন

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬, ১০:২২
পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি সড়কের ব্যাপক ক্ষতি
সংগৃহীত ছবি

গত তিন দিনের টানা বর্ষণ এবং ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় কৃষিজমি, মাছের খামার, খাল, সড়ক ও বসতঘরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খাল উপচে পানি প্রবেশ করায় সবজি ও ধানক্ষেত তলিয়ে গেছে। মাছের পুকুর ভেসে গেছে এবং কয়েকটি বসতঘর নদী ও খালের ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চুনারুঘাট-রামগঙ্গা সড়ক এবং ঢাকা-সিলেট পুরাতন মহাসড়কের সাতছড়ি ও সুরমা চা বাগান এলাকায় সড়কের পাশে একাধিক স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর আগে টানা দুই দফা ভারী বর্ষণে রামগঙ্গা ও চণ্ডিছড়া মাজার এলাকায় সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সলের নির্দেশনায় হবিগঞ্জ সড়ক বিভাগ জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারকাজ শুরু করে। তবে নতুন করে বৃষ্টির কারণে ওই স্থানগুলো আবারও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বুধবার উপজেলা প্রশাসন ও সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন।

চৌমুহনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান সোহাগ জানান, ভবানীপুর এলাকায় নতুন খাল খননের পর পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে কয়েকটি বসতঘর ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। বিষয়টি জানার পর উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে খালটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে আন্দিউড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ি ঢলের পানিতে একাধিক মাছের খামার তলিয়ে গেছে। আন্দিউড়া গ্রামের মাছচাষি মুর্শেদ মিয়া জানান, হঠাৎ পাহাড়ি ঢলে তাঁর চারটি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। এতে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। একইভাবে আরও ১০ থেকে ১২ জন মাছচাষি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

শাহজাহানপুর ইউনিয়নের কৃষক আলী হোসেন জানান, সীমনা ছড়া, হলহলিয়া ছড়া ও তেলিয়াপাড়া ছড়া দিয়ে নেমে আসা পাহাড়ি পানিতে কৃষিজমিতে পলি জমে বরবটি, শসা, লাউ, চালকুমড়া, চিচিঙ্গা, টমেটোসহ বিভিন্ন সবজি এবং আউশ ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজীব সরকার বলেন, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে সবজি ও আউশ ধানের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের জন্য মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে।

হবিগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানান, অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড় ও চা বাগান এলাকায় ভূমিধসের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঢাকা-সিলেট পুরাতন মহাসড়কের অন্তত ১০টি স্থানে ছোট-বড় ভাঙন দেখা দিয়েছে। চণ্ডিছড়া, রামগঙ্গা, সাতছড়ি ও ২০ নম্বর এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে সড়ক রক্ষার কাজ চলছে। তবে অব্যাহত বৃষ্টি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। পাহাড়ি মাটিতে বালুর পরিমাণ বেশি থাকায় ভারী বর্ষণে সহজেই মাটি ধসে সড়কের ওপর এসে পড়ে।

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিজনিত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়ার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। বৃষ্টি কমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামত এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।


সম্পর্কিত খবর

SYED CREATIONS

যেকোন ধরনের ওয়েবসাইট, ওয়েব অ্যাপ বা সফটওয়্যারের জন্য আজই যোগাযোগ করুন। এক জায়গায় পাবেন সকল সমাধান!

০১৮৩৭৫২২৯০২