ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ফুলবাড়িয়া এলাকায় ‘প্রয়াস মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র’-এ চিকিৎসাধীন ফুরকান মিয়া (২৫) নামে এক কাতারপ্রবাসীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, নিরাময় কেন্দ্রের ভেতরে তাঁকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। তবে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের দাবি, বাথরুমে পড়ে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে এ ঘটনার পর কেন্দ্রটিতে চিকিৎসাধীন কয়েকজন রোগী আতঙ্কে পালিয়ে যান। পালিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে উত্তেজিত জনতা কেন্দ্রটিতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে বলে জানা গেছে।
নিহত ফুরকান মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের কুঁড়িঘর গ্রামের পূর্বপাড়ার রশিদ মিয়ার ছেলে। গত ১৩ আগস্ট রাতে মাদকাসক্তির চিকিৎসার জন্য পরিবারের সদস্যরা তাঁকে ওই নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করেন।
নিহতের মামাতো ভাই মো. আশরাফ জানান, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকাল ৯টা ও বিকেল ৫টার দিকে দুবার নিরাময় কেন্দ্রের ইনচার্জ প্রমোদের সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হয়। তখন ফুরকান সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন বলে জানানো হয়েছিল। কিন্তু রাত ৯টার দিকে হঠাৎ ফোন করে ফুরকানের অবস্থা আশঙ্কাজনক জানিয়ে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলা হয়।
আশরাফের অভিযোগ, ফুরকানকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর কেন্দ্রের ইনচার্জ তাঁদের নিরাময় কেন্দ্রে যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তাঁরা জানতে পারেন ফুরকান মারা গেছেন। তাঁর গলা, ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে দাবি করে আশরাফ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
তবে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ‘প্রয়াস মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র’-এর ইনচার্জ প্রমোদ। তাঁর দাবি, মঙ্গলবার রাতে ফুরকান বাথরুমে পড়ে যান। এরপর তাঁর বুকে ব্যথা ও প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যায়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শুরু করা হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নির্যাতনের অভিযোগ সত্য নয় বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে ফুরকানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে কেন্দ্রটিতে থাকা অন্য রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বুধবার দুপুরে নিরাপত্তা ভেঙে কয়েকজন রোগী কেন্দ্র থেকে বের হয়ে যান। পরে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ উদ্ধার করেছে। পরে মরদেহ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি বলেন, মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই ফুরকান মিয়ার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।