নওগাঁর মান্দা উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচিত সদস্যরা চার বছরের বেশি সময় ধরে সম্মানীভাতা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রত্যেক সদস্যের দুই লাখ টাকার বেশি সম্মানীভাতা বকেয়া রয়েছে বলে দাবি করেছেন তাঁরা। একই সঙ্গে সদস্যদের সম্পৃক্ত না করে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিযোগও উঠেছে ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম বাবুর বিরুদ্ধে।
অভিযোগগুলোর তদন্ত শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আল মাসুদ রানা কালিকাপুর ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে অভিযোগের তদন্ত করেন। এ সময় ইউপি সদস্যদের কাছ থেকে লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়। পাশাপাশি পরিষদের বাৎসরিক আয়-ব্যয়ের তথ্য চেয়ারম্যানের কাছে চাওয়া হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা আল মাসুদ রানা বলেন, ‘সবে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্যদের কাছ থেকে লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। চেয়ারম্যানের কাছেও পরিষদের বাৎসরিক আয়-ব্যয়ের তথ্য চাওয়া হয়েছে। এসব বিষয় পর্যালোচনা করে ইউএনওর কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।’
জানা গেছে, কালিকাপুর ইউনিয়ন পরিষদের নয়জন সদস্য গত বছরের ২৪ নভেম্বর মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। এতে সম্মানীভাতা না পাওয়া এবং বিভিন্ন প্রকল্পের কাজে তাঁদের সম্পৃক্ত না করার অভিযোগ করা হয়। অভিযোগ দাখিলের প্রায় নয় মাস পর বৃহস্পতিবার এ তদন্ত অনুষ্ঠিত হলো।
ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিন মোল্লা বলেন, নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি সম্মানীভাতা হিসেবে মাত্র ৩০ হাজার টাকা পেয়েছেন। তাঁর ওয়ার্ডে তাঁকে কোনো প্রকল্পের কাজ দেওয়া হয়নি। বরং অন্য সদস্যদের দিয়ে তাঁর ওয়ার্ডে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। শীতার্ত মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য কোনো কম্বলও তাঁর ভাগে জোটেনি বলে দাবি করেন তিনি।
পরিষদের আরেক সদস্য গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আমি এখন পর্যন্ত সম্মানীভাতা হিসেবে ৪০ হাজার টাকা পেয়েছি। বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিবাদ করায় আমার ভাগ্যে কোনো প্রকল্প জোটেনি।’
ইউপি সদস্য ইউনুস আলী সরদারের অভিযোগ, বিভিন্ন প্রকল্পে সদস্যদের সভাপতি করা হলেও প্রকল্পের কাজ সম্পর্কে তাঁদের কিছুই জানানো হয় না। শুধু কাগজপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে চেয়ারম্যান নিজেই বিল উত্তোলন করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করায় তাঁদের সম্মানীভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে ইউপি সদস্যদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম বাবু। তিনি বলেন, হোল্ডিং ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্স থেকে পাওয়া অর্থ ছাড়া পরিষদের তেমন কোনো আয় নেই। প্রতিবছর পরিষদের আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হওয়ায় সদস্যদের সম্মানীভাতা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।
মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, ইউপি সদস্যদের দেওয়া অভিযোগ তদন্তের জন্য উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।