| ঢাকা
নিউজ.জংশন
বিজ্ঞাপন
যেকোন ধরনের ওয়েব সাইট, ওয়েব এপ, বা সফটঅয়ার এর জন্য আজই যোগাযোগ করুন SYED CREATIONS এ। এক যায়গায় পাবেন সকল সমাধান। ফ্রী পরামর্শের জন্য কল দিন: ০১৮৩৭৫২২৯০২ নাম্বারে।
সারাদেশ

সমঝোতায় রফা, অনাস্থা প্রত্যাহার: শিবপুর ইউপিতে জটিলতার অবসান নাকি নতুন প্রশ্ন?

সামজাদ জসি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আপডেট: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩৫
সমঝোতায় রফা, অনাস্থা প্রত্যাহার: শিবপুর ইউপিতে জটিলতার অবসান নাকি নতুন প্রশ্ন?

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ৯নং শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম আর মজিবের বিরুদ্ধে আনীত অনাস্থা প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত প্রত্যাহার করে নিয়েছেন স্বাক্ষরকারী ৯ জন ইউপি সদস্য। একই সঙ্গে চেয়ারম্যানের প্রতি পুনরায় পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন তাঁরা। এর মাধ্যমে পরিষদে তৈরি হওয়া উত্তপ্ত অনাস্থা পরিস্থিতির আপাত অবসান ঘটলেও, ঘটনার পেছনের কারণ নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা ও গুঞ্জন শুরু হয়েছে।


গত ১৭ জুন আর্থিক অনিয়ম ও পরিষদের কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ তুলে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিয়েছিলেন ৯ জন সাধারণ ও সংরক্ষিত ইউপি সদস্য। বিষয়টি নিয়ে ইউনিয়নজুড়ে উত্তেজনা ও প্রশাসনিক স্থবিরতা তৈরি হয়।

পরবর্তীতে স্থানীয় অভিভাবক ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের সরাসরি মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষকে নিয়ে সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে পরিষদের আয়-ব্যয়, সরকারি বরাদ্দ এবং বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের হিসাব-নিকাশ বিশদভাবে পর্যালোচনা করা হয়।


সমঝোতার পর সদস্যরা দাবি করেন, পর্যালোচনায় তাঁরা দেখতে পেয়েছেন—তথ্যের ঘাটতি ও পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি থেকেই মূলত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের সূত্রপাত হয়েছিল। এ ছাড়া ভূমি হস্তান্তর করের ১ শতাংশ অর্থে বাস্তবায়িত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের সরেজমিন অস্তিত্বও পাওয়া গেছে।

প্রশাসনে লিখিত আবেদন ইউনিয়নের উন্নয়ন কার্যক্রম সচল রাখা এবং জনগণের নাগরিকে সেবা বিঘ্নিত না করার স্বার্থে সদস্যরা অনাস্থা প্রস্তাব প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন। অনাস্থা প্রত্যাহারের আবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। যার অনুলিপি পাঠানো হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক এবং স্থানীয় সরকারের উপপরিচালকের (ডিডিএলজি) কার্যালয়ে।

আবেদনে স্বাক্ষরকারী সদস্যরা হলেন—১ নম্বর ওয়ার্ডের ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া, ২ নম্বর ওয়ার্ডের লিটন মিয়া, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সোহেল মিয়া, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আহসান হাবীব, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হুমায়ুন কবির শাহীন, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদ বশির, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইকবাল ইসলাম, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মাসুদ মিয়া এবং সংরক্ষিত (৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড) সদস্য রোকসানা পারভীন।


রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন ও জনমনে প্রশ্ন হঠাৎ অবস্থান পরিবর্তনের এই ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ১৭ জুনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলো যদি নিছকই "ভুল বোঝাবুঝি" হয়ে থাকে, তবে রাতারাতি তা নিরসন হলো কীভাবে? এর পেছনে কেবল প্রশাসনিক হিসাবের স্পষ্টতা, নাকি সমঝোতার টেবিলে কোনো ভিন্ন রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ কাজ করেছে—তা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। অনাস্থা নাটকীয়ভাবে প্রত্যাহার হলেও পরিষদের সার্বিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির বিষয়টি এখন আরও বেশি আতশিকাচের নিচে। সাধারণ মানুষের নজর এখন একটাই—সংকট কাটার পর শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবিষ্যতে কতটা সমন্বয় ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে পারে।


সম্পর্কিত খবর

SYED CREATIONS

যেকোন ধরনের ওয়েবসাইট, ওয়েব অ্যাপ বা সফটওয়্যারের জন্য আজই যোগাযোগ করুন। এক জায়গায় পাবেন সকল সমাধান!

০১৮৩৭৫২২৯০২